চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে গরুর বাজার, মাছ বাজার ও পাঁচটি সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারার সিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সিডিউল জমা দিতে গেলে যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজীর পক্ষ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধানসহ অন্যদের বাধা দেন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান (৫৫), সায়েম (২০), সফিউল্লাহ (৩৫)সহ আরও দুজন রয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী দাবি করেন, নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ১টা পর্যন্ত। সময় পার হওয়ার পর কয়েকজন সিডিউল নিয়ে এলে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তাদের কর্মী সফিউল্লাহকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধান অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কারসাজির মাধ্যমে একপক্ষের সিডিউল গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, টেন্ডার বাক্স উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় রাখার কথা থাকলেও কেবল পৌরসভায় রাখা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সিডিউল জমা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতা বদরুজ্জামানকে রক্তাক্ত জখমসহ কয়েকজনকে আহত করে। তারা ছেঙ্গারচর পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান।
মতলব উত্তর থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মণ্ডল জানান, সিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, একপক্ষ অন্যপক্ষকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জেনেছেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে একটি পক্ষ আসে। সিডিউল জমা দিতে না পারলে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
তিনি আরও জানান, ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে সাতটি সিডিউল জমা পড়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

