রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। দুর্বল মার্কিন ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে উদ্বেগের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গ্রিনিচ মান সময় ০৬টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,১৯৫.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণ তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.২ শতাংশ কমে ৫,২১৩.৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং বলেন, নতুন শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং দুর্বল ডলারের প্রভাবে বাজারে দামের পুনর্মূল্যায়ন চলছে। তার মতে, ডলারের ওঠানামা, শুল্ক সংক্রান্ত সম্ভাব্য চমক এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে আপাতত দ্বিমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় ঘোষণা করায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বেড়েছে। তবে আমদানি পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্কের বিস্তারিত ঘোষণার অপেক্ষায় বাজার সতর্ক রয়েছে। দুর্বল ডলার অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণকে তুলনামূলক সস্তা করে তোলে, যা চাহিদা বাড়ায়।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, নতুন আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে কিছু দেশের ক্ষেত্রে হার ১৫ শতাংশ বা তার বেশি হতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বাজারের ধারণা, চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভ তিন দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদহার কমাতে পারে। এদিন প্রকাশিত হতে যাওয়া সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদনসংক্রান্ত তথ্য থেকে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ নীতিপথ সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এড়াতে এ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, সোনার তুলনায় রুপা ও অন্যান্য ‘হোয়াইট মেটাল’-এর দরবৃদ্ধি আবারও গতি পেয়েছে। ব্যাংকটি বছরের শেষে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা গোল্ড-সিলভার অনুপাত ৬০-এর ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্পট সিলভারের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯.৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ২,৩০৫.২০ ডলার হয়েছে। তবে প্যালাডিয়াম ০.১ শতাংশ কমে ১,৭৯৩.৮৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। আগের সেশনে এ দুটি ধাতুও তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন