রমজান মাসে রোজাদারদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হল—রোজা অবস্থায় বমি করলে কি রোজা ভেঙে যায়? ধর্মবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত হওয়ার ওপর নির্ভর করে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করে, তার রোজা ভেঙে যাবে। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোজা ভাঙবে না এবং কাজা আদায় করতে হবে না।” (সুনানে তিরমিজি: ৭২০)
বিশেষজ্ঞরা আরও জানালেন, অনিচ্ছাকৃত বমি হলে সাধারণত রোজার ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। কিন্তু অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন যে মুখ ভরে বমি হলে অবশ্যই রোজা ভেঙে গেছে। ফলে অনিচ্ছাকৃত বমির পরে যদি কেউ কিছু খেয়ে ফেলে, তাহলে রোজা ভাঙবে এবং কাজা পালন করতে হবে, তবে কাফফারা আদায় করার প্রয়োজন নেই।
কাজা বলতে বোঝায়—ভাঙা রোজার বদলে পরবর্তীতে আরেকটি রোজা রাখা। আর কাফফারা আদায়ের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে:
একটি দাস মুক্ত করা
৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা আহার করানো
ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা রাখা
ধর্মবিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেন, রোজার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য, পানীয় গ্রহণ বা যৌনমিলন করলে রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে কেবল কাজা নয়, কাফফারাও আদায় করতে হবে।
রোজাদারদের পরামর্শ—রোজা রাখার সময় শারীরিক অসুবিধা বা অসুস্থতার কারণে বমি হলে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। ইচ্ছাকৃত না হলে রোজা অক্ষুণ্ণ থাকে।

