বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুর পর দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন— তা নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts)-এর ওপর বর্তায়। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে পাঁচজন প্রভাবশালী আলেম ও ব্যক্তিত্বের নাম সামনে এসেছে।

১. মোজতাবা খামেনি

৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিশেষ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ বাহিনীর ওপর তার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।
তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। পাশাপাশি, তিনি শীর্ষ পর্যায়ের মারজা বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃত্বের মর্যাদা অর্জন করেননি এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার সরাসরি কোনো পদও নেই।

২. আলীরেজা আরাফি

৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি ইরানের আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য।
গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা যাচাই এবং আইন পর্যালোচনার দায়িত্ব পালন করে। আরাফি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রধান। তবে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের দিক থেকে তাকে তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী মনে করা হয়।

৩. মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি

৬০ বছর বয়সী মিরবাঘেরি কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য এবং রক্ষণশীল আলেমদের মধ্যে প্রভাবশালী নেতা।
পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের জন্য তিনি আলোচিত। বর্তমানে কোম শহরকেন্দ্রিক একটি ধর্মীয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি নির্বাচিত হলে ইরানের নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান দেখা যেতে পারে।

৪. হাসান খোমেনি

৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা Ruhollah Khomeini-এর নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে বড় কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তার প্রভাব সীমিত।

৫. হাশেম হোসেইনি বুশেহরি

ষাটোর্ধ্ব বুশেহরি ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান। খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তবে সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হয়।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ গোপন ভোটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। প্রার্থীকে উচ্চস্তরের ধর্মীয় জ্ঞান, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং শাসন পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে ক্ষমতার ভারসাম্য, সামরিক বাহিনীর অবস্থান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমর্থন—এই তিনটি বিষয়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন