মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাগচি–এর সঙ্গে ফোনালাপে তেহরানের আত্মরক্ষার অধিকারে বেইজিংয়ের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, ওয়াং ই বলেন—চীন ও ইরানের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেয় বেইজিং এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সমর্থন জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে। এতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল, কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ এবং সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ ঘাঁটির দিকে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সংঘাতকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করতে হবে।
একই দিন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে ওয়াং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
এছাড়া ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে আলাপে ওয়াং সতর্ক করেন, বিশ্ব ‘জঙ্গলের আইনে প্রত্যাবর্তনের’ ঝুঁকিতে রয়েছে। তার ভাষায়, ‘প্রধান শক্তিগুলো তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে অন্য দেশগুলোর ওপর ইচ্ছামতো হামলা চালাতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথেই ফিরতে হবে।
এ পর্যন্ত সংঘাতে চারজন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

