লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ–র সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে সংগঠনটির রাজনৈতিক কার্যক্রমেও সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রাজধানী বৈরুত–এর প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।
বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতা এখন থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যুদ্ধ ও শান্তি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত কেবল রাষ্ট্রের এখতিয়ারেই থাকবে।” তিনি আরও জানান, বৈধ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে পরিচালিত যেকোনো সামরিক অভিযান কঠোরভাবে দমন করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ছয়টি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর পরদিন থেকেই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে, যা ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সংগঠনটির প্রথম সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ওই হামলাকে ‘দায়িত্বহীন’ আখ্যা দিয়ে আগেই সমালোচনা করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত লেবাননের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

