পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামতে পরিপূর্ণ। তবে মানুষমাত্রই ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কোনো কারণে রোজা রাখতে না পারা, ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলা বা রোজা পালনে ত্রুটি হলে ইসলামি শরিয়তে এর প্রতিকার হিসেবে কাজা, কাফফারা ও ফিদিয়ার বিধান রয়েছে।
রোজার কাফফারা কী?
ইচ্ছাকৃতভাবে (যৌক্তিক কারণ ছাড়া) রোজা ভেঙে ফেললে শুধু কাজা করলেই যথেষ্ট নয়; কাজার পাশাপাশি কাফফারাও আদায় করতে হয়। কাফফারা হলো অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণমূলক ইবাদত।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কাফফারার ধাপগুলো হলো—
১. একটি দাস মুক্ত করা।
২. তা সম্ভব না হলে ধারাবাহিকভাবে ৬০ দিন রোজা রাখা।
৩. এটিও সম্ভব না হলে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাবার খাওয়ানো।
ধারাবাহিকতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অধিকাংশ ফকিহের মতে, কাফফারার ৬০টি রোজা একটানা আদায় করা আবশ্যক। মাঝপথে বিনা ওজরে বিরতি হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
যদি কেউ একটি রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙে, তাহলে তার জন্য হবে—
-
১টি কাজা
-
৬০টি কাফফারা
অর্থাৎ মোট ৬১টি রোজা।
দুটি রোজা ভাঙলে ৬২টি, তিনটি ভাঙলে ৬৩টি—এভাবে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে কাজা যুক্ত হবে; তবে একই রমজানের জন্য কাফফারা একটি।
৬১টি রোজা পূর্ণ হওয়ার আগে বিনা ওজরে বিরতি দিলে পুনরায় এক থেকে শুরু করে পূর্ণ ৬১টি রোজা আদায় করতে হবে। পূর্বে রাখা রোজাগুলো নফল হিসেবে গণ্য হবে।
তবে গ্রহণযোগ্য ওজর (যেমন অসুস্থতা) থাকলে তা ক্ষমাযোগ্য। নারীরা মাসিকের সময় বাদ দিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাফফারা আদায় করবেন।
নাবালেগদের বিধান
শিশুদের ওপর রোজা ফরজ নয়। তারা উৎসাহ বা আগ্রহে রোজা রাখলে এবং তা ভেঙে ফেললে তাদের ওপর কাজা বা কাফফারা কোনোটিই ওয়াজিব হবে না।
ধর্মীয় বিধান বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অভিজ্ঞ আলেম বা নির্ভরযোগ্য ফিকহ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

