রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জিন্দা পার্কের জামে মসজিদে ডিজিটাল হাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্ক–এর ভেতরের জামে মসজিদটি এখন ব্যাপক আলোচনায়। নান্দনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি নামাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি চালুর কারণে মসজিদটি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।

রাজধানীর কোলঘেঁষা শান্ত-শ্যামল পরিবেশে গড়ে ওঠা এই পার্কের ভেতরে প্রায় এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত জিন্দা পার্ক জামে মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থানই নয়, বরং আধুনিক শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

নামাজে অংশ নিতে ডিজিটাল নিবন্ধন

মসজিদে নিয়মিত জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়েই নিশ্চিত করা হয় উপস্থিতি। মূলত নিয়মিত নামাজে উৎসাহ দেওয়া, সময়ানুবর্তিতা বাড়ানো এবং ইবাদতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে কে নিয়মিত নামাজে অংশ নিচ্ছেন এবং সময়মতো উপস্থিত হচ্ছেন কিনা—এমন তথ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে মুসল্লিদের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ দুই-ই বেড়েছে।

স্থানীয় অগ্রপথিক পল্লী সমিতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মসজিদে পার্কের দর্শনার্থী ছাড়াও নিয়মিত নামাজ আদায় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর হাজিরা পদ্ধতি অনেককে নিয়মিত জামাতে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করছে।

একজন মুসল্লি বলেন, “আগে মাঝে মাঝে অলসতা কাজ করত। এখন ডিজিটাল হাজিরা থাকায় দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে। ফলে নিয়মিত নামাজে আসার একটা তাগিদ অনুভব করি।”

প্রকৃতির সান্নিধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির এই প্রয়োগ রূপগঞ্জে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় অনুশীলনে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার যে শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বাড়াতে পারে—তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে জিন্দা পার্কের এই ডিজিটাল মসজিদ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক প্রয়োগে প্রযুক্তি কেবল পার্থিব কাজেই নয়, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় চর্চাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন