বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান সংক্রান্ত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে রাশিয়া—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাঠাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি এই তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সহায়তা সংঘাতকে আঞ্চলিক পর্যায় ছাড়িয়ে বৈশ্বিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই গোয়েন্দা সহায়তাকে “বেশ বিস্তৃত” বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কমান্ড ও কন্ট্রোল অবকাঠামো, রাডার ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত রোববার কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে অবস্থিত সিআইএর একটি স্টেশনও হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, দূতাবাসের একটি অংশ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেটি আর ব্যবহারযোগ্য নয়।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশ্লেষক দারা মাসিকোটের মতে, ইরান সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার ও কমান্ড সেন্টারগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় রাশিয়ার উন্নত মহাকাশভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।

অন্যদিকে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের বেলফার সেন্টারের গবেষক নিকোল গ্রাজেভস্কি বলেন, ইরানের পাল্টা হামলাগুলোতে উচ্চমাত্রার কৌশলগত পরিকল্পনার ছাপ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও চীন এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তা দিচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে, তার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সহায়তা করে রাশিয়া কৌশলগত প্রতিশোধ নিতে পারে। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন