ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলার পর ইসরায়েল সরকার প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রবেশ সীমিত করেছে—এমন দাবি করেছেন ভারতীয় সাংবাদিক ব্রজ মোহন সিং।
সংবাদমাধ্যম দ্য কারেন্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল সফর শেষে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাংবাদিক সিং এসব অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইরেন বাজানোর আগেই আঘাত হানে। সরকার যেসব স্থানকে নিরাপদ বলে উল্লেখ করেছে, সেখানেও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাঙ্কারের ভেতরেও ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ব্রজ মোহন সিংয়ের অভিযোগ, কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে সেটি ঠিক কোথায় ঘটেছে বা কতজন হতাহত হয়েছেন—এসব তথ্য জানাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “সরকার আপনাকে কিছুই জানাবে না। যেখানে মরদেহ রয়েছে, সেই হাসপাতালগুলোতে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয় না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য ধারণ করতেও সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গণমাধ্যমের কভারেজ সীমিত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি এবং সাংবাদিকের অভিযোগ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ওই অভিযানে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করা হয়।
এর জবাবে ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন হাজারো মানুষ। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বেসামরিক ও সামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এ সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, প্রণালীটি খোলা থাকবে, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়াতেও। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। নতুন দামে পেট্রোলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২১ দশমিক ১৭ রুপি এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ৮৬ রুপি।

