বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এসি চালানো শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৮ সরকারি কর্মকর্তা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। আগামী ১৫ মার্চ তাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন দফা পরিবর্তনের পর এ তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

সরকারি সফরের অফিসিয়াল প্রোগ্রামের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’। সফরে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালকসহ মোট আটজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন।

তবে যে প্রকল্পের অর্থে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন, সেই প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। প্রকল্পটির ব্যয় ইতোমধ্যে দুই দফায় বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এদিকে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) জানিয়েছে, যে এইচভিএসি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, সেই সিস্টেমের কাজ প্রকল্পে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া সফরে যাচ্ছেন এমন কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও জানা গেছে।

সফরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।

নথিপত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ এ সফরের সব ব্যয় বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত এবং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেন্ট্রাল এসি সরবরাহ করেছে।

তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের সফর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে পারে, যা সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির মান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

২০১৯ সালে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পটির আওতায় ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে আইএমইডির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকল্পের অগ্রগতি এখনও সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজ শেষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবায়নে কাজে লাগানো হবে। ভবিষ্যতে এইচভিএসি সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশের প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এমনকি অবসরের পরও প্রকৌশলীরা বেসরকারি খাতে এ জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবেন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন