বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যুদ্ধ থেকে ‘পালানোর পথ’ খুঁজছে ইসরাইল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক হামলা নিয়ে ইসরাইলের কিছু সিনিয়র কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যুদ্ধটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরও ক্ষতিকর হয়ে ওঠার আগেই এর সমাপ্তির পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের কিছু কর্মকর্তা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য উপায় বা ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ খুঁজছেন। যদিও যুদ্ধ থামানো বা চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে। তিনি এখনো পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।

রোববার এক সিনিয়র ইসরাইলি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ইরান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। প্রথমদিকে তিনি ইরান সরকারের কিছু নমনীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও পরে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন। তার দাবি, সম্ভাব্য আলোচনার অংশীদারদের অনেকেই এখন আর বেঁচে নেই।

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ‘মোমেন্ট অব ট্রুথ’ পর্যন্ত এগিয়ে যেতে চান।

এরই মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছেলে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি আলোচনার পথে সহজে আগ্রহী নাও হতে পারেন।

ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেল ও গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, অস্ত্র কারখানা এবং সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের বড় অংশ ইতোমধ্যে গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তার মতে, শাসন পরিবর্তন ইসরাইলের একটি লক্ষ্য হলেও সেটিই যুদ্ধ শেষ হওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো ধ্বংস হলে ইসরাইল তার লক্ষ্য অর্জন করেছে বলে দাবি করতে পারে।

এদিকে নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ইসরাইল ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে চায়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি সামরিক পরিকল্পনাকারীদের আরও দুটি বড় উদ্বেগ রয়েছে— লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য চাপ।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল লেবাননে বড় স্থল অভিযান চালাতে চায় না এবং যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদে বিস্তৃত করতেও আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ জড়িয়ে ফেলতে চায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন এক ইরান গড়ে তোলার কথা বললেও সেই লক্ষ্য অর্জনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে— শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের সমাপ্তি কীভাবে ঘটবে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন