বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জমি নিয়ে বিরোধ, ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় জরিনা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে গত রোববার সকালে আমতলী পৌরসভার বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, আমতলী পৌর শহরের বটতলা এলাকায় আব্দুর রব হাওলাদার ও তাঁর ভাগ্নে লিটন সিকদারের মধ্যে প্রায় তিন ফুট জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার সকালে ওই জমিতে আব্দুর রবের জামাতা, সেনাসদস্য শাহজাহানের নেতৃত্বে তাঁর দুই ছেলে রাকিব ও সাকিবসহ ৮-১০ জন কাজ শুরু করেন। এ সময় লিটন সিকদার বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহজাহান, আব্দুর রব ও তাঁদের লোকজন লিটন সিকদারকে মারধর করেন। লিটনকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাঁর ভাই রিপন সিকদারকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দুই ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাঁদের মা জরিনা বেগমকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরিনা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তিনি মারা যান। দুপুরে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের ছেলে রিপন সিকদার বলেন, তিন ফুট জমি নিয়ে মামা আব্দুর রব হাওলাদারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। রোববার সকালে সেনাসদস্য শাহজাহান প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে আমাদের মারধর করা হয়। মা আমাদের বাঁচাতে গেলে তাকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর রোববারই আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সেনাসদস্য শাহজাহানের প্রভাবের কারণে পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এদিকে জরিনা বেগমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শাহজাহানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ পেয়েছি।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তকরে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন