দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন চার নভোচারী। নাসার নেতৃত্বে পরিচালিত Artemis II মিশনের মাধ্যমে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার মানুষকে চন্দ্রকক্ষে পাঠানো হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে (জিএমটি রাত ১০টা ৩৫ মিনিট) কমলা-সাদা রঙের বিশাল Space Launch System রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত হাজারো মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।
এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নিয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান (মিশন কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট), ক্রিস্টিনা কোচ, জেরেমি হ্যানসেন।
তাদের মধ্যে একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন অ-মার্কিন নভোচারী থাকায় এই মিশনটি বৈচিত্র্যের দিক থেকেও ঐতিহাসিক।
বর্তমানে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করছেন এবং মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করছেন। ‘প্রক্সিমিটি অপারেশন’সহ গুরুত্বপূর্ণ মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মিশন কমান্ডার ওয়াইজম্যান উৎক্ষেপণের পর বলেন, “চাঁদ আমাদের সামনে—আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।”
উৎক্ষেপণের পর কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা ধরা পড়লেও তা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে নাসা। যেমন, টয়লেট কন্ট্রোলারের একটি ছোট ত্রুটি এবং সাময়িক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা—যা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
নাসা প্রশাসন জানিয়েছে, নভোচারীরা নিরাপদে আছেন এবং মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে নভোচারীরা তিন দিনের যাত্রায় চাঁদের দিকে রওনা হবেন। তারা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে নতুন ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করবেন। পুরো মিশনটি প্রায় ১০ দিন স্থায়ী হবে।
এই মিশনের মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতে, বিশেষ করে ২০২৮ সালের মধ্যে, মানুষের চাঁদে অবতরণের পথ প্রস্তুত করা।
এই অভিযানের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবী থেকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ড গড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহ অভিযানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মিশন শুধু বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিই নয়, বরং বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে চায়নার সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে।

