বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিশ্বে তেল শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৩ দিনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম তেল শেষ হয়ে যাওয়া দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশটি মোট জ্বালানির ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারি দাঁড়াতে হচ্ছে চালক ও পরিবহনকর্মীদের। অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে এবং ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা কমে এসেছে।

পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ কবে শেষ হবে এবং ইরান হরমুজ প্রণালী আবার খুলবে কি না তা অনিশ্চিত। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার এই পথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।

বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি রেশনিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ডিজেল বিক্রয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের সময় কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ মজুত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ খুবই সীমিত; মাত্র দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমছে।

সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে সরকার দাবি করলেও, রাজধানী ও বিভিন্ন শহরের বাস্তব পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে জনগণ যথেষ্ট প্রভাবিত হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন