আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান-এ। জ্বালানির আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সরকার নতুন করে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী ৩০দিনের জন্য সব গণপরিবহনের ভাড়া ফ্রি করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
আজ শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকবি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এ ব্যাপারে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নির্দেশনায়, আগামী ৩০ দিনের জন্য ইসলামাবাদের সব গণপরিবহনের ভাড়া ফ্রি থাকবে। যা কাল শনিবার থেকে কার্যকর হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় বহন করবে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস, সাশ্রয়ী নীতি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনতে হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে ভবিষ্যতে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমাতে সরকার বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করার কথাও ভাবছে।
বিশ্ববাজারের ওঠানামার কারণে জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই হতে পারে এই সংকট মোকাবেলার মূল চাবিকাঠি।

