বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরানের কাছে মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি বিক্রি করছে চীনা কোম্পানি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পাঁচ সপ্তাহের মাথায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তথ্য, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরী ও তেহরানে হামলার প্রস্তুতির বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তথ্যগুলো এসেছে চীনের বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ওপেন-সোর্স ডেটা ব্যবহার করে এমন গোয়েন্দা তথ্য তৈরি ও বিক্রি করছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি-এর সঙ্গে সংযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিজারভিশন, যা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত, পশ্চিমা ও চীনা ডেটা একত্র করে এআই দিয়ে বিশ্লেষণ চালায়। তারা দাবি করেছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বড় রণতরী বহরের অগ্রযাত্রা শনাক্ত করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এয়ার বেসে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরনও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অন্য প্রতিষ্ঠান জিং’আন টেকনোলজি দাবি করেছে, তারা দুইটি মার্কিন বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের মধ্যে যোগাযোগ রেকর্ড করেছে, যদিও পরে সেটি মুছে ফেলা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দারা এসব দাবির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সাবেক ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, “চীনের কোম্পানিগুলো নিজের ক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাতে পারে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে—সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করছে।”

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্মুক্ত তথ্য ব্যবহার করে সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন