দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি এপ্রিল মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ নমুনায় এই রোগ শনাক্ত হচ্ছে, যা গত মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এর ভাইরোলজি বিভাগের হাম ও রুবেলা পরীক্ষাগার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে শনাক্তের হার ওঠানামা করলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। ৩১ মার্চ শনাক্তের হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ, ১ এপ্রিল ৩৪ শতাংশ, ২ এপ্রিল ৩৭ শতাংশ, ৩ এপ্রিল ২৫ শতাংশ এবং ৪ এপ্রিল ৪৭ শতাংশে পৌঁছায়।
ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব, সেখানে বর্তমানে তিনগুণ বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে। শুধু ৫ এপ্রিল বিকেল ৫টা পর্যন্তই ৩৬০টি নমুনা জমা পড়েছে, যা পরীক্ষাগারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।
ভাইরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আমিরুল হুদা ভূঁইয়া জানান, “দেশে হাম ও রুবেলা পরীক্ষার জন্য এটি একমাত্র কেন্দ্র হওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে নমুনা পাঠানো হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি চাপ তৈরি হয়েছে।”
এদিকে দুর্গম এলাকা থেকে নমুনা আনতে দীর্ঘ ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বান্দরবানের আলীকদম থেকে আসা এক কর্মী বলেন, নমুনা জমা দিতেই কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩ মে থেকে এই কর্মসূচি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানো না গেলে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

