বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘শান্তি মিশন’ নিয়ে চীন যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট।।

তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী চেং লি-উন ‘শান্তি মিশন’ নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন। আগামীকাল তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং–এর সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

চেং তাইওয়ানের বৃহত্তম বিরোধী দল কুয়োমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারম্যান। তিনি তার সফরকে ‘শান্তি মিশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন চীন তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়েছে এবং ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ প্রক্রিয়ার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে।

অন্যদিকে, তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) এই সফর নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, কেএমটি চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেএমটি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেছে, “সমৃদ্ধির একমাত্র ভিত্তি হলো শান্তি।”
এর জবাবে ডিপিপি অভিযোগ করে, বিরোধীদল প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল আটকে দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

চেং সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; রাজনৈতিক উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ ইস্যুতে আলোচনার সময় এখনো আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সম্ভাব্য বেইজিং সফরের এক মাস আগে, যেখানে তার সঙ্গে সি’র বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এক ফোনালাপে সি ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এটি এক দশকের মধ্যে কেএমটির কোনো শীর্ষ নেতার প্রথম চীন সফর। ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং–এর কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজয়ের পর কেএমটি তাইওয়ানে আশ্রয় নেয়—যা বর্তমান দ্বন্দ্বের ঐতিহাসিক ভিত্তি।

চীন এখনো নিশ্চিত করেনি, সি চিনপিং চেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কি না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন