বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধ থামালো পাকিস্তান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আগে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা আগেও আলোচনা চলছিল এবং তাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ছিল ইসলামাবাদ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানায়, আলোচনায় দেশটির পক্ষ থেকে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দল কাজ করছিল। তাদের অবস্থান ছিল সতর্ক ও গম্ভীর, তবে সংঘাত নিরসনে আশাবাদীও ছিল তারা।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে পাকিস্তান। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ—এই দুই দিক থেকেই মধ্যস্থতার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোলেও অনিশ্চয়তা ছিল।

এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান এবং এটিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানান এবং দুই পক্ষকে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানান। পরবর্তীতে ভোরের দিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে এবং ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর এবং দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

 

সূত্র: বিবিসি
সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন