রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পরিবারের জন্য খাদ্য মজুত করা কি নাজায়েজ?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখতে অনেকেই কয়েক মাস বা এক বছরের খাদ্যসামগ্রী আগেভাগে কিনে সংরক্ষণ করেন। তবে এ ধরনের মজুত ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করলে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কয়েক মাস বা এমনকি এক বছরের খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ করা নাজায়েজ নয়। হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজ পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্যসামগ্রী একত্রে সংরক্ষণ করতেন। তাই এ ধরনের সংরক্ষণকে গুনাহ হিসেবে দেখা হয় না।

তবে ইসলামে নিষিদ্ধ হলো এমন মজুদদারি, যার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় বা দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় পণ্য গুদামজাত করে মানুষের কষ্ট বাড়ায়, তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। এক বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি খাদ্য মজুত করে, সে গুনাহগার” (সহিহ মুসলিম: ১৬০৫)। অন্য হাদিসে উল্লেখ আছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী মজুদদারদের জন্য কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৩৮)।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এসব হাদিস মূলত সেইসব মজুদদারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় এবং বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তাই সাধারণ প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে বাজারে প্রভাব ফেলবে—এমন মজুত করা সম্পূর্ণভাবে নাজায়েজ।

অন্যদিকে, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে খাদ্যশস্য গুদামজাত করাও বৈধ, যদি তা বাজারে সংকট সৃষ্টি না করে। যেমন মৌসুমে ধান কিনে পরে স্বাভাবিক দামে বিক্রি করা—এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ মজুদদারির আওতায় পড়ে না।

সর্বোপরি, ইসলামে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—যেখানে ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণ করা যাবে, কিন্তু তা যেন অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন