বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এই প্রণালি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ টোল পরিশোধ করতে হবে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসে। প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে কোনো স্থায়ী সমাধান ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের “চূড়ান্ত প্রস্তাব” দিয়েছে, কিন্তু ইরান তা গ্রহণ করেনি। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালি সব ধরনের আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে।
তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খোলা হবে না। দেশটির ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবেয়ি একে তেহরানের “রেড লাইন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি মুদ্রায় টোল পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, এই জলপথ “শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ এলএনজি পরিবহন হয়। ফলে এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

