ইসলামে হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং এটি মুসলমানদের ওপর ফরজ করা পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কেউ নিজের সামর্থ্য না থাকা অবস্থায় অন্য কোনো আত্মীয়ের পক্ষ থেকে বদলি হজ (হজে বদল) আদায় করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে পরবর্তীতে তার নিজের ওপর হজ ফরজ হবে কি না—এ প্রশ্ন অনেকের মাঝেই দেখা যায়।
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অন্যের পক্ষ থেকে হজ আদায় করলে তা নিজের ফরজ হজ হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে পরবর্তীতে যদি ওই ব্যক্তি নিজে হজ করার সামর্থ্য অর্জন করেন, তাহলে তার ওপর নিজ নামে হজ করা ফরজ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজ এমন একটি ইবাদত যা সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার নিজের পক্ষ থেকে আদায় করা আবশ্যক। কোরআনে কারিমে হজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, মানবজাতির জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রথম ঘর মক্কায় অবস্থিত, যা বরকতময় ও সমগ্র বিশ্বের জন্য হিদায়াতস্বরূপ। সেখানে প্রবেশকারী নিরাপদ থাকে এবং যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।
এছাড়া হাদিস শরিফেও হজ পালনে দেরি না করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, কেউ হজের ইচ্ছা করলে যেন দ্রুত তা সম্পন্ন করে, কারণ মানুষের জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি আসতে পারে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, বদলি হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ইবাদত হলেও এটি মূলত অন্যের দায়িত্ব পালনের জন্য করা হয়। তাই নিজের ফরজ দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানকে নিজ নামে হজ আদায় করতে হবে।

