মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টার প্রতি রিয়াদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
সোমবার এক ফোনালাপে তিনি আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইরান-এর পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাদের দেশ দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং সংলাপে অংশ নিয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র -এর কঠোর অবস্থান ও অতিরিক্ত শর্তকে দায়ী করেন।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-এ চলাচল পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি। এই প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে ইসরাইল-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনাও আলোচনার অংশ ছিল বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং কঠোর অবস্থানই সংঘাত নিরসনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হবে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংলাপই একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সৌদি আরবের এই সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এখন নজর রাখছে, এই প্রচেষ্টাগুলো ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়।

