মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে শি জিনপিং। আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি চার দফা শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে সুবিধামতো ব্যবহার করা বা প্রয়োজন অনুযায়ী উপেক্ষা করা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
চীনের প্রস্তাবিত চার দফা কাঠামোতে বলা হয়েছে—
১) আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার একটি স্থায়ী কাঠামো গঠন,
২) সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা,
৩) আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নিয়ম মেনে চলা,
৪) উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
চায়না জানিয়েছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে থেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বৈঠকে উভয় পক্ষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর এমন এক সময়ে হয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে Hormuz Strait দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে চীনের জ্বালানি আমদানি ও বাণিজ্য প্রবাহে সাম্প্রতিক ওঠানামা এই পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক জোরদার হওয়া ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে বেইজিংয়ের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

