পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে নির্মিত ফুটপাত এখন অনেক জায়গায় সম্পূর্ণভাবে জঙ্গল ও আগাছায় ঢেকে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই ফুটপাত এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
ভ্রমণপিপাসু ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম এই মহাসড়ক। ২০০৭ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তিন ফুট প্রশস্ত ফুটপাত নির্মাণ করেছিল সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য। কিন্তু প্রায় ১৮ বছরের ব্যবধানে সেই ফুটপাতের বড় অংশ এখন আর ব্যবহারযোগ্য নেই।
২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করলেও পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাতের অস্তিত্ব অনেক জায়গায় কেবল নামমাত্র রয়ে গেছে।
বিশেষ করে আমতলী উপজেলার শাখারিয়া থেকে বান্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কিলোমিটার অংশে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। কোথাও ছোট গাছ, কোথাও ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে পুরো ফুটপাত। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ব্যস্ত মহাসড়কের মূল অংশে হাঁটছেন।
এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পথচারী জামাল বিশ্বাস বলেন, রাস্তার পাশে হাঁটার কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে মূল রাস্তায় নামতে হয়, সবসময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাওহিদুল ইসলাম কাশ্মীর বলেন, ফুটপাত এখন বোঝাই যায় না কোথায় আছে। জঙ্গল পরিষ্কার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অবকাঠামো থাকলেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় পুরো ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ফুটপাত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক পথচারী বাধ্য হয়ে মূল সড়কে ওঠায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, বিষয়টি পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। তিনি জানান, ফুটপাত সংস্কার ও পরিষ্কারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অপেক্ষা না করে এখনই জরুরি ভিত্তিতে ফুটপাত পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধার করতে হবে। নইলে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল থাকলেও নিরাপদ হাঁটার জায়গা কার্যত অনুপস্থিত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে-এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

