বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

লেবাননে নিহত দিপালীর মরদেহ ফেরাতে আকুতি, ক্ষোভ পরিবারের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত প্রবাসী নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের (৩৪) মরদেহ দেশে ফেরাতে আকুতি জানিয়েছেন তার পরিবার। বিশেষ করে ছোট বোন লাইজু আক্তার (২৪) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকে শুধু ছবি তুলতে আসছেন, কিন্তু মরদেহ ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় লাইজু বলেন, “গত ১২ এপ্রিল ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে আবেদন করেছি। আমি কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না, শুধু আমার বোনটাকে ফেরত চাই। মানুষ বাড়িতে এসে ছবি তুলে নিয়ে যায়, কিন্তু কেউ লাশ ফিরিয়ে দেয় না।”

নিহত দিপালী আক্তারের বাড়ি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া দিপালী ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে জীবিকার সন্ধানে লেবাননে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কাজ করে পরিবারের হাল ধরেন তিনি। তার উপার্জিত অর্থেই পরিবারের ভাঙা ঘরের পরিবর্তে টিনের ঘর নির্মাণসহ ভাইবোনদের বিয়ের খরচ বহন করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল বৈরুতের একটি ভবনে ইসরাইলি হামলার সময় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

লাইজু আরও জানান, ১৩ এপ্রিল লেবাননে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় মরদেহ দেশে পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী জানান, মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি বলেন, মরদেহ দেশে পৌঁছালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তা বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে।

এদিকে, প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে অসহায় পরিবারটি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন