ডেস্ক রিপোর্ট।।
ভারতের লোকসভায় নারী আসন সংরক্ষণ এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধির সংশোধনী বিল পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় এটি বাতিল হয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।
ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮ জন সদস্য ভোট দিলেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। তবে সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। প্রস্তাবিত এই বিলের লক্ষ্য ছিল ২০২৯ সাল থেকে আইনসভায় নারী কোটা কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি।
বিলটি পাস না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত আরও দুটি প্রস্তাবিত বিল থেকেও তারা সরে আসবে। সরকারের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলাদাভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু হতাশা প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভোটার ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বিলটির তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, এটি নারীদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার প্রকৃত উদ্যোগ নয়। তার মতে, বিলটির মাধ্যমে দেশের নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসের একটি প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছিল, যা দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
বিলটি বাতিল হওয়ায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে।

