বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রশাসনের আশ্বাসে আমতলীতে গণ অনশন প্রত্যাহার

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের দাবিতে চলা গণ অনশন কর্মসূচি উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

স্থানীয় আমতলী সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী একে স্কুল পয়েন্টে এই গণ অনশন শুরু হয়। টানা তিন দিন ধরে চলা কর্মসূচিতে শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার সড়ক এখনও সরু এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে।
তাদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদন পেলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় আমতলী সচেতন নাগরিক সমাজ। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

আমতলী সচেতন নাগরিক সমাজের অন্যতম সংগঠক আসাদুজ্জামান মোমেন আকন ও নুহু ফকির বলেন, উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না হলে আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
আন্দোলনকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এই সড়কে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে। বিশেষ করে গত ১৪ এপ্রিল আমতলী এলাকায় ট্রাকচাপায় দুই অটোরিকশা যাত্রী নিহত হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা না হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়বে। একইসঙ্গে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আমতলী সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগই এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন