ডেস্ক রিপোর্ট।।
ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মিসওয়াক একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। মুহাম্মদ (সা.) নিজ জীবনে নিয়মিত মিসওয়াক ব্যবহার করেছেন এবং উম্মতকে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
মিসওয়াকের ফজিলত
হাদিসে মিসওয়াকের গুরুত্ব অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যদি উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করা বাধ্যতামূলক করে দিতেন।
আরেক বর্ণনায় হজরত আয়েশা (রা.) থেকে জানা যায়, মিসওয়াকসহ আদায় করা নামাজ মিসওয়াক ছাড়া নামাজের তুলনায় অনেক বেশি সওয়াবের অধিকারী।
এছাড়া আবু উমামা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে—মিসওয়াক মুখ পরিষ্কার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম।
নবীজির জীবনে মিসওয়াক
মিসওয়াকের প্রতি এতটাই গুরুত্ব ছিল যে, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও মুহাম্মদ (সা.) মিসওয়াক ব্যবহার করেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি নিজ হাতে মিসওয়াক প্রস্তুত করে নবীজিকে দেন এবং তিনি তা ব্যবহার করেন।
মিসওয়াকের উপকারিতা
মিসওয়াক শুধু ধর্মীয় আমল নয়, এর রয়েছে বাস্তব উপকারিতাও—
- দাঁত পরিষ্কার রাখে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করে
- মাড়ি শক্ত করে
- মুখগহ্বরের জীবাণু কমাতে সাহায্য করে
- নিয়মিত ব্যবহারে দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক
মিসওয়াক করার সুন্নত পদ্ধতি
- ডান হাতে মিসওয়াক ধরা
- ডান দিক থেকে শুরু করা
- দাঁতে আড়াআড়ি (প্রস্থে) এবং জিহ্বায় লম্বালম্বি ব্যবহার করা
- এমন আকারের মিসওয়াক ব্যবহার করা যাতে সহজে ধরা ও ব্যবহার করা যায়
ইসলামি জীবনব্যবস্থায় ছোট ছোট সুন্নত আমলও বড় সওয়াবের কারণ হতে পারে। মিসওয়াক তেমনই একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা একদিকে ইবাদতের অংশ, অন্যদিকে দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতারও কার্যকর উপায়।

