ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে আলোচনার মধ্যে সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কোন রাজনৈতিক দল থেকে তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তাকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষায়, “সংসদে গিয়ে মানুষের পক্ষে কথা বলার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া সহজ ছিল না, কিন্তু নীতিগত কারণে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া উচিত—এই অবস্থান তিনি আগে থেকেই নিয়ে আসছেন। এ নিয়ে তিনি প্রচারণা চালিয়েছেন এবং জনসমর্থনও সংগ্রহ করেছেন। তাই প্রস্তাব গ্রহণ করলে তার নিজস্ব অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতো বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করেন এবং প্রয়োজনে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারেন। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা বা ভোটারভিত্তি থাকে না, যা একটি কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করে।
তাসনিম জারা আরও বলেন, “বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। তাদের প্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হওয়া উচিত। সংরক্ষিত আসন থাকলে সেটিও জনগণের ভোটে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।”
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সীমিত প্রচারণা সত্ত্বেও ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পান বলে জানান তিনি। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ফলাফল মেনে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সংসদে গেলে জনগণের সরাসরি ভোটেই যেতে চান এবং সংসদের বাইরে থেকেও সামাজিক কাজ চালিয়ে যাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত নারী আসনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিতে পারে।

