সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের দ্বিপাক্ষিক সভা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

চীনে সফররত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে পৃথক দুটি বৈঠকে দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি গণচীনের উপরাষ্ট্রপতি হান জেং-এর সঙ্গে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে সাক্ষাৎ করে। এছাড়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং-এর সঙ্গেও তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীন-এর মধ্যে বিদ্যমান ‘Comprehensive Strategic Cooperative Partnership’ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে আরও বিকশিত হয়। বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সফর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় উঠে আসে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা ও মাঝারি শিল্প এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি পরিশোধন প্রযুক্তি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহও জানানো হয়।

স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, রোবোটিক সার্জারি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই উচ্চপর্যায়ের এই ধরনের সংলাপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন