যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব ক্রমশ গভীর হচ্ছে ইরানের অর্থনীতিতে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতির সম্মিলিত চাপে শ্রমবাজার ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকেও এই বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই সংকটের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।
ইরানের শ্রম ও সমাজকল্যাণ উপমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মদী জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে কর্মসংস্থান হারানোর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তার মতে, শুধু বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানাই নয়, খুচরা ব্যবসা, আমদানি-রপ্তানি খাত এবং ডিজিটাল অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কায় অন্তত ১০ লাখ মানুষ সরাসরি চাকরি হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।
সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ডিজিটাল অর্থনীতিও স্থবির হয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক—প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নতুন প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কর্মসূচি চালু করেছে। গোলাম হোসেন মোহাম্মদী বলেন, পুনর্গঠন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

