বর্তমানে পিঠের ব্যথা বা ব্যাক পেইন একটি সাধারণ কিন্তু ভোগান্তিকর স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। খেলাধুলায় আঘাত, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কিংবা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নিচে ব্যাক পেইন কমানোর ৮টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো—
১. কোর মাসল শক্তিশালী করুন
শরীরের কেন্দ্রীয় পেশি বা কোর মাংসপেশি মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেয়। নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এসব পেশি শক্তিশালী করলে পিঠের ওপর চাপ কমে।
২. প্রতিদিন স্ট্রেচিং করুন
পেশি শক্ত হয়ে গেলে ব্যথা বাড়ে। নিয়মিত স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় থাকে এবং মেরুদণ্ডে চাপ কম পড়ে।
৩. সঠিক ভঙ্গিতে বসুন
দীর্ঘক্ষণ ভুলভাবে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই মাঝে মাঝে উঠে হাঁটা এবং সোজা হয়ে বসার অভ্যাস জরুরি।
৪. নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ুন
হাঁটা একটি সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম, যা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পিঠের ওপর চাপ কমায়।
৫. ভারি জিনিস তোলার সময় সতর্ক থাকুন
ভুলভাবে ভার তোলার কারণে পেশিতে টান লাগতে পারে। তাই পিঠ নয়, পায়ের শক্তি ব্যবহার করে জিনিস তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৬. ঘুমের ভঙ্গি ঠিক রাখুন
চিৎ হয়ে শোয়ার সময় হাঁটুর নিচে বালিশ এবং কাত হয়ে শোয়ার সময় হাঁটুর মাঝে বালিশ ব্যবহার করলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে।
৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন পিঠের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই সুস্থ পিঠের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
৮. ধূমপান ত্যাগ করুন
ধূমপান রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে মেরুদণ্ডের ডিস্ক ক্ষয় করে এবং অস্টিওপরোসিস-এর ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব অভ্যাস মেনে চললে পিঠের ব্যথা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে আঘাতজনিত বা দীর্ঘস্থায়ী তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: ইউসি ডেভিস

