মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ফের পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একে অপরকে সীমান্তে নতুন করে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।

আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশ-এ পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তালেবানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, মর্টার ও রকেট হামলায় প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদ-এ অবস্থিত সাইয়েদ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

তিনি এই হামলাকে “ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় বা বেসামরিক স্থাপনায় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান এলাকায় সীমান্তে গুলিবর্ষণে অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সীমান্ত বাহিনীর এক মুখপাত্র একে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সহিংসতা দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। গত মার্চে চীন-এর মধ্যস্থতায় উভয় দেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যা কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করেছিল।

এছাড়া তুরস্ক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব-ও উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত সংঘর্ষ চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। পরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মার্চে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো সময় তা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন