উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ টমেটোর পাইকারি কেন্দ্র দিনাজপুর সদর উপজেলার গাবুরা বাজারে পুরোদমে চলছে টমেটো বেচাকেনা। মৌসুমজুড়ে এই বাজারকে ঘিরে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জেলা শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে গড়ে ওঠা এ বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকেই কৃষকরা ক্ষেত থেকে তাজা টমেটো নিয়ে হাজির হচ্ছেন। নদীর তীরঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় অস্থায়ী আড়ত বসে, যেখানে পাইকাররা দরদাম করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনে নিচ্ছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রতিমণ টমেটো ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার টমেটো দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক পাইকার প্রতিদিন এ বাজারে আসছেন। গড়ে ৬০টির মতো ট্রাকে করে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ কেজি টমেটো পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিপণন কর্মকর্তারা।
এ বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত শ্রমিক টমেটো বাছাই, প্যাকেজিং ও পরিবহনের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
কৃষকদের মতে, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে এখন সহজেই পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। এতে তারা আগের তুলনায় ভালো দাম পাচ্ছেন এবং টমেটো চাষে আগ্রহও বাড়ছে।
তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, বেশি দামে টমেটো কিনতে হওয়ায় এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের লাভের পরিমাণ কমে গেছে। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় এক হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ফলন ভালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।

