ইরানি হামলার পাল্টা জবাব নির্ধারণে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বিশেষ বৈঠক শুরু হয়েছে। গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল-এর এই বৈঠক মঙ্গলবার সৌদি আরবের রিয়াদ-এ শুরু হয়েছে, যদিও সম্মেলনে অংশ নিতে নেতারা জেদ্দা-এও জড়ো হচ্ছেন।
রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই প্রথম জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সরাসরি বৈঠকে বসেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ও প্রতিক্রিয়া কৌশল নির্ধারণই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
জানা গেছে, ইরানি হামলায় জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
যদিও গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে, তবে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পুনরায় সংঘাত শুরুর আশঙ্কা রয়ে গেছে।
বৈঠকে অংশ নিতে কাতার-এর আমির, কুয়েত-এর ক্রাউন প্রিন্স, বাহরাইন-এর রাজা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত হয়েছেন। জিসিসির আরেক সদস্য ওমান-এর প্রতিনিধিত্ব এখনও নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে জিসিসি সমালোচনার মুখে পড়েছে। আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, লজিস্টিক সহায়তা থাকলেও রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে জোটটির অবস্থান দুর্বল ছিল।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

