প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রশংসা করে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, তার নেতৃত্বেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আজকের এই পার্লামেন্ট কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির করুণার দান নয়, এটি জনগণের পার্লামেন্ট।” তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলনে হাজারো নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন এবং ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রবিউল আলম বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৩টি মামলার আসামি হয়েছেন, ৯ বার কারাবরণ করেছেন এবং ৯৭ দিন রিমান্ডে ছিলেন। এছাড়া তিন দিন গুম থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে পুরো সংসদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু সরকারি দলের নয়, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ বা কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, “সংসদ নেতা আমাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বিরোধী দলের সদস্যদের আরও পরিপক্ক করতে তার সান্নিধ্য প্রয়োজন।”
এ সময় রবিউল আলম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে তার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, একটি পুরোনো রাজনৈতিক দল কখনোই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারেনি এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭১ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে মত দিয়েছে, যার মধ্যে ৫১ শতাংশ বিএনপির প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন পদ্ধতির পক্ষে।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

