বছরের অধিকাংশ সময় শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করা হলেও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এলেই অনেকেই ‘দরদি’ হয়ে ওঠেন বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এ সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াত আমির বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না। তবে বাস্তবে দেখা যায়, বছরের ৩৬৪ দিন তাদের দাবিগুলো উপেক্ষিত থাকে, আর পহেলা মে এলেই নানা আশ্বাস দেওয়া হয়।
বামপন্থী রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক সময় শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। “আন্দোলন গড়ে ওঠে, মানুষ হতাহত হয়, কিন্তু শেষে কিছু নেতা সুবিধা নিয়ে সরে যান,”—বলেন তিনি।
শ্রেণি-সংগ্রামের রাজনীতির বিরোধিতা করে শফিকুর রহমান বলেন, “মালিককে শত্রু মনে করে ধ্বংস করার রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের প্রতি ন্যায্য আচরণ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অন্যথায় উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও যথাযথ মর্যাদা পান না। বিদেশে পাসপোর্টসহ নানা সেবায় ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করা। “অ্যাম্বাসির কাজ কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা দেওয়া নয়, বরং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা,”—যোগ করেন তিনি।
শ্রমিক দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শিকাগোর ঘটনার পর ১৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের অনেক দাবি এখনো পূরণ হয়নি। “প্রতিশ্রুতির অল্প অংশ বাস্তবায়ন হলেও শ্রমিকদের এত দাবি থাকত না,”—মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদীয় রাজনীতিতে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার, আ ন ম শামসুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম খানসহ দলের অন্যান্য নেতারা। সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান।

