সিলেট জেলা স্টেডিয়াম আজ যেন নতুন রূপে ধরা দিল। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আর উৎসবমুখর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর।
শনিবার বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে প্রতিযোগিতাটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল শিশু-কিশোর ক্রীড়াবিদরা।
১৯৭৬ সালে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’ এবার নতুন আঙ্গিকে ফিরেছে। টেলিভিশনের জনপ্রিয় সেই আয়োজন এখন মাঠভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে—‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ। ইতোমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ঢাকার বাইরে থেকে এই আয়োজনের সূচনা করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভা তুলে আনাই মূল লক্ষ্য।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের অংশগ্রহণে মোট ৮টি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গড়াবে এই প্রতিযোগিতা। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ইভেন্টে নকআউট পদ্ধতিতে খেলা হবে, আর দাবায় থাকবে সুইস লিগ পদ্ধতি।
১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রমে সারা দেশ থেকে অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এর মধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন এবং মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সর্বনিম্ন সংখ্যক প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছেন।
সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মের তারকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

