মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যুদ্ধ অবসানের আশায় ইরান-আমেরিকার ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক হচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি এক পাতার ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করছে হোয়াইট হাউজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবার দুই পক্ষ এতটা সমঝোতার কাছাকাছি এসেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে যেসব বিষয় থাকতে পারে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ থাকা অর্থ মুক্ত করা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল।

তবে এসব শর্ত চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে বলে জানা গেছে।

খসড়া অনুযায়ী, এই স্মারকে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। আলোচনা হতে পারে ইসলামাবাদ অথবা জেনেভা-তে।

পর্দার আড়ালে আলোচনায় যুক্ত আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের মেয়াদ নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী ইরান প্রস্তাব দিয়েছে ৫ বছর। যুক্তরাষ্ট্র চায় ২০ বছর। সমঝোতার সম্ভাব্য সময় ১২ থেকে ১৫ বছর।

সমঝোতায় ইরান প্রতিশ্রুতি দিতে পারে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আওতায় থাকবে।

যদিও অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে, তবুও চূড়ান্ত চুক্তি না হলে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু হতে পারে।

এছাড়া হোয়াইট হাউজ মনে করছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনও চুক্তির পথে বড় বাধা হতে পারে।

আলোচনা চলমান থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন