ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আগামীকাল শনিবার (৯ মে) কলকাতায় আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব নেবেন তিনি।
শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দুর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদে অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে তার নাম প্রস্তাব করেন বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যিনি দলের প্রধান পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে ৪ মে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
রাজনৈতিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন। ২০২০ সালে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।
২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। এবারের নির্বাচনেও তিনি ভবানীপুর আসনে মমতাকে হারিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে তিনি প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকারে দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও নিয়োগ দিতে পারে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে গত দুই দশকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ কার্যত ছিল না।
সূত্র: এনডিটিভি

