ডেস্ক রিপোর্ট।।
কাপাসিয়ায় এক গৃহবধূ, তার তিন সন্তান ও ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মো. ফোরকান মিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার আগে পাঁচজনকেই চেতনানাশক বা বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছিল।
মো. বাসেত, কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন), জানান সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাতের খাবারের সঙ্গে বিষ বা চেতনানাশক মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “পাঁচজনের মধ্যে শুধু শারমিন কিছুটা সজাগ ছিলেন। ছোট মেয়ে ফারিয়ার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়েছে। তাকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।”
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মৃত্যু নিশ্চিত করতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় কোপ দেওয়া হয়। বড় দুই মেয়ে মীম ও মারিয়াকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে রাউৎকোনা পূর্বপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন— শারমিন (৩০), তার তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং ভাই রসুল মিয়া (২২)।
প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্বৃত্তদের হামলা বলে ধারণা করা হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা ফোরকান মিয়াকেই অভিযুক্ত করেন। ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর–এর মেরী গোপিনাথপুর গ্রামে।
শারমিনের চাচা উজ্জ্বল মোল্লা দাবি করেন, শুক্রবার গভীর রাতে ফোরকান তার ছোট ভাইকে ফোন করে বলেন, “আমি বাসায় সবগুলাকে মেরে ফেলেছি। তোরা লাশ নিতে আয়। আমাকে আর খুঁজে পাবি না।”
স্থানীয় বাসিন্দা রত্না আক্তার বলেন, “স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু নিষ্পাপ শিশুদের কেন হত্যা করা হলো, তা বুঝতে পারছি না।”
ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ–এর পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পলাতক ফোরকান মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

