ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগে ইরাকের প্রত্যন্ত মরুভূমিতে গোপনে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল ইসরায়েল—এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার আগে এই ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। ঘাঁটিটি মূলত লজিস্টিক সহায়তা এবং সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সেখানে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সহায়ক সরঞ্জাম ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। পাশাপাশি একটি উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে দ্রুত পাইলট উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্চের শুরুর দিকে ইরাকি সেনারা মরুভূমির ওই এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপের সন্ধান পান। পরে তারা ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ইরাকি সেনা নিহত হন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম তখন জানিয়েছিল।
একটি পৃথক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় হেলিকপ্টার ওঠানামা ও গোলাগুলির শব্দ শোনার পর এক মেষপালক বিষয়টি স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে জানান। এরপর ঘটনাটি আরও সামনে আসে।
ইরাক সরকার সে সময় তাদের এক সেনার মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছিল এবং বলেছিল, কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানে তাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল ও জনবিরল মরুভূমি এমন গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য কৌশলগতভাবে উপযুক্ত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ বিষয়ে ইসরায়েল বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।

