ডেস্ক রিপোর্ট।।
কোরবানি মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও ত্যাগের প্রতীক। প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলিম সমাজে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। তবে কোরবানি নিয়ে অনেকের মনেই বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে অন্যতম—স্বামীর টাকায় স্ত্রীর কোরবানি আদায় হবে কি না।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হয় এমন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং মুকিম মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর, যারা নির্ধারিত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কেউ নেসাবের মালিক হলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
কোরবানির নেসাব নির্ধারণে নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য, অতিরিক্ত জমি বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হিসাব করা হয়। এসব সম্পদের মোট মূল্য যদি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয়, তাহলে কোরবানি ওয়াজিব হবে।
ফকিহদের মতে, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি সামর্থ্যবান হন, তাহলে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে আলাদা কোরবানি করতে হবে। শুধুমাত্র স্বামীর কোরবানি স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট হবে না। একইভাবে সামর্থ্যবান সন্তানদের পক্ষ থেকেও আলাদা কোরবানি আদায় করতে হয়।
তবে স্বামী যদি নিজের অর্থে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোরবানি করেন এবং সেই কোরবানি স্ত্রীর নামে আদায় করা হয়, তাহলে স্ত্রীর ওয়াজিব কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। অর্থাৎ কোরবানি আদায়ের জন্য নিজের অর্থ ব্যয় করা শর্ত নয়। অন্যের অর্থ, উপহার বা পরিবারের সহযোগিতায় কোরবানি করলেও তা আদায় হয়ে যায়।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলা। তাই সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আন্তরিকতার সঙ্গে এই ইবাদত আদায় করা।

