রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বনানীতে স্বামী-স্ত্রীর বেপরোয়া মাদক কারবার: হুমকির মুখে যুবসমাজ

শাদিন সরকার | ঢাকা

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর বেলতলা বস্তি ঘিরে গড়ে উঠেছে মাদকের এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছেন মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত জরিনা এবং তার বর্তমান স্বামী সাগর। দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতি এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা চালিয়ে আসলেও তারা বরাবরই থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ বিশাল এক যুবগোষ্ঠী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বনানীর বেলতলা বস্তিতে জরিনার মাদকের স্পটটি বেশ পুরনো। এর আগে জরিনা রুবেল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ছিলেন। রুবেলকে তালাক দেওয়ার পর তিনি সাগরকে বিয়ে করেন এবং দুজনে মিলে মাদক কারবারকে আরও বিস্তৃত করেন। বর্তমানে জরিনা বস্তির ভেতরে বসে স্পট পরিচালনা করেন, আর সাগর সামলান ‘হোম ডেলিভারি’ ও সাপ্লাই চেইন।

সাগর শুধু খুচরা বিক্রেতা নন, তিনি মাদকের বড় বড় চালান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রাজধানীতে নিয়ে আসার কাজও করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সাগরের একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। ফোনে অর্ডার করলেই মটরসাইকেল যোগে বনানী ও মহাখালীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে দেন তিনি। টাকার বিনিময়ে অন্যদের মাদকের চালানও নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কিছুদিন আগে মহাখালীর শরিফের মাদক স্পট থেকে পুলিশ সাগরকে আটক করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাগর পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তিনি পুনরায় প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেলতলা বস্তির এক বাসিন্দা বলেন,

“এখানে দিন-রাত মাদক বিক্রি হয়। আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। সাগর আর জরিনার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। কথা বললেই সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে মারতে আসে। মাঝেমধ্যে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, কিন্তু কয়েকদিন পরেই জামিনে এসে তারা আবার একই কাজ শুরু করে।”

এই বিষয়ে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন,

“সাগর ও জরিনা—উভয়ের বিরুদ্ধেই বনানী থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আমরা তাদের গ্রেফতারের জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। তবে বস্তি এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় অনেক সময় তারা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল। খুব শীঘ্রই এই চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জামিনে বেরিয়ে এসে সাগরের বেপরোয়া আচরণ আরও বেড়ে যায়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়েও তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। বনানী ও মহাখালী এলাকার যুবসমাজকে রক্ষায় এই দম্পতির স্থায়ী গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন