ডেস্ক রিপোর্ট।।
টক দই শুধু সুস্বাদু খাবারই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমাণমতো টক দই খেলে হজমশক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে সকালে টক দই খাওয়ার কিছু বাড়তি উপকার পাওয়া যায়।
হজমে সহায়ক
টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের উপকারী জীবাণু বাড়াতে সাহায্য করে। এতে খাবার সহজে হজম হয় এবং গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা
দইয়ে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত দই খেলে শরীর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে কিছুটা ভালোভাবে লড়তে পারে।
ত্বক ও চুলের যত্নে উপকারী
টক দইয়ে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও প্রোটিন ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং চুলকে মজবুত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব
পরিমিত টক দই রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
টক দইয়ে ক্যালোরি তুলনামূলক কম হলেও এটি দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সহায়ক
দইয়ে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে, যা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং দাঁত শক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মানসিক স্বাস্থ্যে উপকার
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
- যাদের ঠান্ডা, কাশি বা সাইনাসের সমস্যা রয়েছে, তারা খুব ঠান্ডা দই এড়িয়ে চলতে পারেন।
- খালি পেটে অতিরিক্ত টক দই খেলে কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। কলা, ওটস বা মধুর সঙ্গে খেলে ভালো।
- অতিরিক্ত চিনি মেশানো দইয়ের বদলে প্রাকৃতিক বা ঘরে তৈরি দই খাওয়াই বেশি উপকারী।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত টক দই খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

