ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য এটি ওয়াজিব। কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি আত্মত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—দুই ভাই মিলে এক ভাগে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না?
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা এক ব্যক্তির পক্ষ থেকেই কোরবানি করতে হয়। এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন না। তবে গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া জায়েজ।
ফুকাহায়ে কেরামের মতে, কোরবানির এক ভাগে একাধিক ব্যক্তির নাম যুক্ত করা বৈধ নয়। অর্থাৎ, একই ভাগে দুই ভাই যৌথভাবে অংশ নিতে পারবেন না, যদিও তারা একই পরিবারের সদস্য হন। যদি এক ভাগে একাধিক ব্যক্তিকে শরিক করা হয়, তাহলে সেই কোরবানি সহিহ হবে না।
তবে একটি সমাধান রয়েছে। দুই ভাইয়ের একজনের নামে কোরবানি করা যেতে পারে। অন্য ভাই চাইলে তার অংশের অর্থ তাকে দিয়ে দিতে পারেন অথবা পশুর মালিকানার অংশ হস্তান্তর করতে পারেন। এরপর ওই ব্যক্তির নামে কোরবানি আদায় হবে। কোরবানির মাংস পরিবারের সবাই মিলে খেতে কোনো সমস্যা নেই।
যদি দুই ভাইই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন এবং তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা কোরবানি করা আবশ্যক। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকে একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কোরবানি করবেন অথবা গরু, মহিষ কিংবা উটের অন্তত এক সপ্তমাংশে শরিক হবেন।
হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) উট ও গরুর কোরবানিতে সাতজন পর্যন্ত শরিক হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম: ১৩১৮, ৩০৪৯)

