কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে অনেকেই জানতে চান, মৃত মা-বাবার পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, মৃত মা-বাবার পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া বৈধ। আলেমরা বলেছেন, এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। তবে এ ধরনের কোরবানি সাধারণত নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হয়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, তার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনি যদি মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করেন তবে কি মা সওয়াব পাবেন? উত্তরে নবীজি বলেন, “হ্যাঁ।” (সহিহ বুখারি, মুসলিম)
ফকিহদের মতে, মৃত মা-বাবার ঈসালে সওয়াবের নিয়তে কোরবানি করলে সেই গোশত নিজেও খাওয়া যাবে এবং আত্মীয়-স্বজনদের মাঝেও বিতরণ করা যাবে।
এছাড়া হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) নিজের পরিবারের পাশাপাশি উম্মতের পক্ষ থেকেও কোরবানি করতেন। এ থেকে মৃতদের সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কোরবানি করার বৈধতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় কোরবানির অসিয়ত করে গেলে এবং তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে কোরবানি আদায় করা হলে সেই গোশত ওয়ারিসরা খেতে পারবেন না। বরং পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির অসিয়ত তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্য থেকেই বাস্তবায়ন করতে হয়। বাকি সম্পদ ওয়ারিসদের অধিকার হিসেবে গণ্য হয়।
আলেমরা আরও বলেন, নিজের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে আগে নিজের কোরবানি আদায় করা উত্তম। এরপর মৃত মা-বাবার জন্য সওয়াবের নিয়ত করলে নিজের কোরবানিও আদায় হবে, পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিও সওয়াব লাভ করবেন।

