রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রাতে বাড়তে পারে যেসব রোগের উপসর্গ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দিনের তুলনায় রাতে অনেক রোগের উপসর্গ বেশি অনুভূত হয়। শরীরের জৈবঘড়ির পরিবর্তন, শোয়ার ভঙ্গি, ঠান্ডা পরিবেশ ও হরমোনের ওঠানামার কারণে এমনটা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু রোগ রাতে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

রাতে যেসব রোগের উপসর্গ বাড়তে পারে

১. হাঁপানি বা অ্যাজমা
রাতে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও বুক চেপে ধরার অনুভূতি বাড়তে পারে। অনেকের মাঝরাতে হাঁপানির অ্যাটাকও হয়।

২. গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি
খাওয়ার পর দ্রুত শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরে উঠে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ও গলা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

৩. সাইনাস ও অ্যালার্জি
রাতে নাক বন্ধ, হাঁচি ও কাশি বেড়ে যায়। শোয়ার সময় শ্লেষ্মা জমে থাকায় অস্বস্তি বেশি অনুভূত হয়।

৪. আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ব্যথা
দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে থাকার কারণে রাতে জয়েন্ট শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়তে পারে।

৫. হৃদ্‌রোগের উপসর্গ
কিছু মানুষের রাতে বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট বা বুকব্যথা বাড়তে পারে। বিশেষ করে হার্ট ফেইলিউর রোগীদের শুয়ে থাকলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।

৬. উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাক
রাতের নীরব পরিবেশে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে। এতে অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় ও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।

৭. ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা
রাতে রক্তে শর্করা কমে গেলে ঘাম, দুর্বলতা, কাঁপুনি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

৮. ত্বকের চুলকানি
একজিমা বা অ্যালার্জিজনিত চুলকানি রাতে বাড়তে পারে। কারণ রাতে ত্বকের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

  • ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট
  • বুকব্যথা
  • তীব্র কাশি
  • ঘুম ভেঙে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ঘাম
  • মাথা ঘোরা

এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

রাতে উপসর্গ কমাতে যা করবেন

  • ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন
  • অতিরিক্ত চা, কফি ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন
  • নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন
  • বালিশ সামান্য উঁচু করে ঘুমান
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন
সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন